বিকল্প পথে সূক্ষ্ম কৌশলে পরীমণির আইনজীবীরা

 

 

বিনোদন ডেস্ক : বিকল্প পথে হাঁটার পরিকল্পনা নিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণির আইনজীবীরা। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন ‘টেকনিক’ অবলম্বন করছেন। যেমনটা ১ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শনিবার (২১ আগস্ট) পরীমণিকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন চাওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা চাননি। এখানে তারা একটি সূক্ষ্ম টেকনিক অবলম্বন করেছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ইঙ্গিত মিলেছে- খুব সহজে জামিন হচ্ছে না এই নায়িকার। তবে দ্রুত জামিন করাতে তার আইনজীবীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

উল্লেখ্য, গেল ৪ আগস্ট পরীমণিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‍্যাব। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে তারা। তার ড্রয়িংরুমের কাবার্ড, শোকেস, ডাইনিংরুম এবং বেডরুমের সাইড টেবিল ও টয়লেট থেকে বিপুল মদের বোতল উদ্ধার করা হয় বলেও দাবি করা হয়। পরদিন বিকেলে পরীমণি, প্রযোজক ও অভিনেতা মো. নজরুল ইসলাম রাজ এবং তাদের দুই সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপু ও মো. সবুজ আলীকে বনানী থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব। এরপর র‍্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে।

 

জামিন না চাওয়ার সেই টেকনিক্যাল কারণ কী ছিলো?

এমন প্রশ্নে উত্তরা জানতে চাইলে পরীমণির আইনজীবী মুজিবর রহমান বলেন, ‘সেশন কোর্টে যেতে হলে নিম্ন আদালতে সর্বশেষ আদেশের প্রয়োজন হয়। যদিও আমরা গতকাল শুনানি করতাম, তাহলে ওটাই হতো সর্বশেষ আদেশ। যে কারণে ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সেশন আদালতে যেতে হলে আমাদের আরও সময় লাগতো। অন্তত দুই দিন লেগে যেত। যে কারণে আমরা গতকাল জামিন চাইনি। তাই এখন পর্যন্ত আমাদের জামিন চাওয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিলো গত ১৯ আগস্ট।’

 

আসলে আইনি লড়াইয়ে এটি একটি কৌশলগত প্রাকটিস, নিয়ম হচ্ছে সিএমএম কোর্ট থেকে সেশন কোর্টে যেতে হলে অবশ্যই সিএমএম কোর্টের সর্বশেষ আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি গতকাল ২১ তারিখে জামিন চাইতাম, আর আদালতের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হায়ার কোর্টে যেতে চাইতাম তাহলে এতো দ্রুত, মানে আজই আবেদন করতে পারতাম না বা আদেশের সার্টিফাই কপি পেতাম না।’

 

মহানগর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘যেহেতু মামলাটির তদন্ত এখনও চলছে। সেই তদন্ত সম্পন্ন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করবেন, সেটির ওপর ভিত্তি করেই আদালত রায় দিবেন। এখানে আসামীপক্ষ জামিন চাইতেই পারে, সে প্রেক্ষিতে আদালতের এখতিয়ার রয়েছে জামিন দেয়ার বা না দেয়ার। মামলাটি যেহেতু আমাদের রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনভূক্ত, সেহেতু আমরা ওই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবো। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আরও বলেন, ‘পরীমণির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় যেহেতু ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি এবং আইসের কথা উল্লেখ রয়েছে, সে কারণে এই আসামির জামিন দেয়ার বিষয়ে আদালত কঠোর থাকার কথা।’

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় নায়িকা পরীমণির জামিন আবেদন করেছেন আইনজীবী। জামিন বিষয়ে শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার (২২ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে তার জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মুজিবুর রহমান। পরীমণির আইনজীবী মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল শনিবার (২১ আগস্ট) মাদক মামলায় তৃতীয় দফায় রিমান্ড শেষে পরীমণিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তৃতীয় দফায় ১ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার পর পরীমণিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। এরপর তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) পরীমণির ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম। তার আগে ১০ আগস্ট পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। ৫ আগস্ট পরীমণি ও দীপুর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। মাদক মামলায় গেল ১৩ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।